14

December

স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাজারে একদিন

বাংলাদেশ নদি মাতৃক দেশ, এ কথার সাথে সবাই পরিচিত। তাছাড়া নদির পাড়ের পাড়ে রয়েছে অনেক ধরনের সুন্দর প্রকৃতির ছোঁয়া। সেই ছোঁয়া নিতেই গেলাম স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাজারে । অসম্ভব সুন্দর এক পরিবেশে পেয়ারার বাজার, যা আসলেই মনোমুগ্ধকর।

বাংলাদেশকে বইয়ের পাতা বহু আগেই চিনিয়ে দিয়েছে নদী মাতৃক হিসেবে! কিন্তু কতজনই বা আমরা নদীর আসল রূপ দেখেছি! অনেকদিন, দিন নয়, আসলে অনেক বছর ধরে সরূপকাঠির পেয়ারা বাজারটা দেখার ইচ্ছে ছিল! কিন্তু হচ্ছিল আর কই! কখনো সময় মেলেনা, কখনো আসে না সুযোগ! আর একটা সময় পর্যন্ত মনে হতো ট্রিপ করার জন্য অন্তত তিনদিন দরকার! কিন্তু বাচ্চা আর সংসার সামলে ছুটির দিন অন্তত একটাতো নিজের জন্য চাই! ধীরে ধীরে একদিনের ট্রিপে অভ্যস্ত হয়ে গেলাম! এবং যেহেতু নিজের জীবনের ২০১৭ কে ভ্রমণের বছর হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি তাই ভাবলাম এবার আর ছাড়াছাড়ি নেই। আমার ঘোরার পার্টনার তুষার ভাইয়ের সাথে আলাপ করে এই বর্ষায় রওনা দিলাম বরিশালের উদ্দেশ্যে! এবার সাথী হলো আমার আরও দুই সহকর্মী বাপ্পা এবং মুন।

সায়দাবাদ থেকে লঞ্চ ছাড়বে নটায়। অবশ্যই দুই ঘণ্টা বাড়িয়ে বললেন, মানে সাতটায়। কিন্তু আমি হলাম লাথির ভূত! অফিস শেষ করে বাপ্পা আর মুনকে পৌঁছলাম তখন যখন লঞ্চ বাঁশি মেরে ঘাট ছেড়ে যাওয়ার পথে। ডেকে যাবো। কোনও মতে লঞ্চে উঠে রওনা দিলাম। ডেকে দেখলাম আরেকটি দলও যাচ্ছে আমাদের সাথে। সবার সাথে গল্প আর আলাপে পৌঁছে গেলাম স্বরূপকাঠি। ভোরে নামতেই দেখলাম বাস অপেক্ষা করছে। বাসে চেপে সোজা নাশতার জায়গায়। বরবটি ভর্তা, খিচুরি, ডিম আহা! পেট ঠাণ্ডা তো দুনিয়া ঠাণ্ডা! এবার গন্তব্য ভিমরুলী বাজার! দুটো ট্রলার নিয়ে রওনা হলাম পেয়ারা বাজারের উদ্দেশ্যে।

এবার যা বলবো তা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। নদীটা এঁকে বেঁকে গেছে। ঠিক ছোটবেলায় আঁকা ছবির মতো। দুপাশের গাছ এসে বাঁকা হয়ে ছায়া করে দিচ্ছে। তার মাঝ দিয়ে এগুচ্ছে আমাদের ট্রলার। পেয়ারা বাজার দশটার আগে বসে না। তাই আমরা সবাই স্থানীয় একটি বাজারে থেমে খেলাম মিষ্টি! আর দেখলাম অদ্ভুত একটা দৃশ্য।

ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বড় বড় স্পিকার! ভাবলাম শুক্রবার। কোনও বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য হয়তো নিচ্ছে! কিন্তু না! সেটা পরে বলছি।

এবার দশটা। রওনা দিলাম। শুক্রবার হওয়াতে আরও ছোটখাটো দল আছে যারা যাচ্ছে পেয়ারা বাজার দেখতে! এবার ধীরে ধীরে পেয়ারা বাগানের ভিতরে ঢুকছি। পানিতে ভেসে আছে সুস্বাদু পেয়ারা। পাশের নৌকা ভরা পেয়ারা নিয়ে ছুটছে পেয়ারা চাষী! চারপাশে সবুজ!

সব ঠিকঠাক, বাধ সাধলো সেই স্পিকার। বারো থেকে উনিশ বছর বয়সী ছেলেপেলেরা নৌকায় উগ্র ভলিউমে হিন্দি গান ছেড়ে এলাকাটার বারোটা বাজিয়ে দিল চোখের নিমিষে। তাতে স্থানীয়রাও বিরক্ত!

এতো সুন্দর একটা জায়গায় কেন ওদের এমন করতে হবে, কেন তারা এমন সুন্দর সকালে ক্রিকেট খেলে না, কেন তারা গাইড পায় না- এমনটা ভেবে যখন বিরক্ত সবাই , তখনই আবার ভাবলাম না হয় এখন জায়গাটা নিয়েই ভাবি। সবাই মন ভরে পেয়ারা কিনলো। এরপর আবার ঘুরে ফিরে ভিমরুলি হয়ে দুর্গা সাগর দেখে লঞ্চে চেপে চলে এলাম ঢাকায় ভোরে যখন আলো ফুটি ফুটি.. ভিডিও দেখুন। আর এরপর প্ল্যান করুন এখানে যাবার এবং অবশ্যই স্পিকার ছাড়া!

খরচের আলাপ: এটা একটা দলীয় যাত্রা ছিল তাই লেগেছে মাত্র ১৮০০ টাকা।

লাগেজের আলাপ: যা নিলে পিঠে সবে এবং যা যা নিলে অন্যকে বিরক্ত করা হবে না

সময়: ৩৬ ঘণ্টা      

Posted In:    

Related Blogs

Beautiful Bangladesh
  • Author: Jannatul Islam

A country that is a diverse and intriguing mix of culture, tradition and unforgettable beauty is an…

Shopping in Dhaka
  • Author: Jannatul Islam

Bashundhara City

রাতের ঝিলমিল হাতিরঝিলে
  • Author: Jannatul Islam

হাতিরঝিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি…

লালবাগের ফুল বাগিচায়
  • Author: Jannatul Islam

লালবাগ কেল্লায় সবচাইতে আকর্ষণীয় এবং দর্শনীয়…